আয়নাঘরের অন্ধকার কক্ষ থেকে কথিত ক্রসফায়ারে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক মামলা গড়াচ্ছে বিচারের পর্যায়ে। এর মধ্যে গুমের অভিযোগে করা তিনটি মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে। রাষ্ট্রপক্ষের আশা, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলার বিচার চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হতে পারে। একই সময়ে কথিত ক্রসফায়ার ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে হত্যার অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে; সেগুলোর বিচার শুরুর প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে।
আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলার বিচার চলছে। এসব মামলার সাক্ষ্য-জবানবন্দিতে উঠে আসছে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ, দিনের পর দিন গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা, নির্যাতন, অপহরণ, গুম এবং কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যার নানা বিবরণ।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের অভিযোগে আড়াই শতাধিক ঘটনার তদন্ত চলছে। ফলে একদিকে দীর্ঘদিন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ন্যায়বিচারের অপেক্ষা, অন্যদিকে নতুন মামলার বিচার শুরুর প্রস্তুতি সব মিলিয়ে গুম, খুন ও কথিত ক্রসফায়ারের অভিযোগের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক বিরোধী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে গুমের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা বছরের পর বছর মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’সহ বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে।
ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা ও আবেদন করা হয়। এসব মামলার সাক্ষ্য-জবানবন্দিতে র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল এবং ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে আটকে রাখা ও নির্যাতনের বিভিন্ন বিবরণ উঠে এসেছে।
বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের পক্ষ থেকেও গুম ও হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, র্যাব ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের অভিযোগে টিএফআই সেল, জেআইসি এবং মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোতে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও জাতীয় সংসদের বর্তমান এমপি ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমানের অভিযোগসংক্রান্ত মামলাগুলোও বিচারাধীন।
প্রসিকিউশনের আশা, চলমান মামলাগুলোর কয়েকটির সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। তবে প্রতিটি মামলার অগ্রগতি, সাক্ষীর সংখ্যা, আসামিপক্ষের জেরা ও আদালতের কার্যতালিকার ওপর রায় ঘোষণার সময় নির্ভর করছে।
টিএফআই সেলে গুম করে রাখার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন আসামি। তাদের মধ্যে সাবেক ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন। প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলার কয়েকজন আসামি কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক।
অন্যদিকে, ডিজিএফআইয়ের জেআইসিতে গুম করে রাখার অভিযোগে করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায়ও কয়েকজন আসামি গ্রেফতার এবং অন্যরা পলাতক।
শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি বিচার শেষ পর্যায়ে।
প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, বিচারকাজ স্বাভাবিক গতিতে চললে অক্টোবরের মধ্যে উভয় পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে। তা সম্ভব না হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ১০৪ জন ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণও উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ও জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, প্রসিকিউশন জোর দিয়ে অভিযোগের কথা বললেও তা প্রমাণের মতো সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারেনি।
নাজনীন নাহার জানান, জিয়াউল আহসানকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলায় টার্গেট করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে জবানবন্দি দিতে তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, জিয়াউল আহসান তাতে রাজি না হওয়ায় প্রসিকিউশন বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তবে মামলার অভিযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শাইখ মাহাদী জাগো নিউজকে বলেন, গুম, অপহরণ ও হত্যার মামলাগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এসব মামলায় একজন সাক্ষীকে একাধিক আসামির আইনজীবীর জেরার মুখোমুখি হতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০, ১২ কিংবা ১৭ জন আসামির আইনজীবী একজন সাক্ষীকে জেরা করেন। ফলে বিচারিক কার্যক্রমে সময় লাগছে।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষকে জেরার যথেষ্ট সুযোগ দিচ্ছেন। এতে সময় লাগলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে গাফিলতি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। চলতি বছরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর বিচার শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও গুমের কয়েকটি মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়ার আশা জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমানের (এমপি) অভিযোগসংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনে গুমের অভিযোগের তদন্ত, বিচার ও প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র গুমের অপরাধের বিচার হবে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে।
নতুন আইনের আলোকে ট্রাইব্যুনালে আগে থেকে জমা পড়া ও তদন্তাধীন অভিযোগগুলোও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। কোন অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত হবে আর কোনটি অন্য আদালতে পাঠানো হবে, তা নির্ধারণে অভিযোগের ধরন ও আইনের বিধান বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতা মাইকেল চাকমাও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি পাঁচ বছর তিন মাস আটক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট মুক্তি পান।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে এসব মামলা শুধু বিচারিক কার্যক্রম নয়, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অবসানের আশাও। তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের দপ্তরে খোঁজখবর রাখছেন অনেক পরিবার। কারও কাছে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা, কারও কাছে নিখোঁজ স্বজনের পরিণতি জানার আকুতি- বিচারের গতি নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ দুটোই রয়েছে।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রসফায়ারের নামে উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে হত্যার অভিযোগে করা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ।
মামলায় চার আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অন্য দুই আসামি সাবেক পুলিশ সদস্য মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন কারাগারে।
এ মামলায় অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তবে অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
২০১৬ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে কথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নয় তরুণ নিহত হন। পরে তাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করে সাজানো অভিযানে হত্যা করা হয়েছিল, এমন অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়।
এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ, নিহত তরুণদের জঙ্গি পরিচয় দিয়ে অভিযানের নামে হত্যা করা হয়েছিল। এ মামলায় অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর প্রক্রিয়া নিয়ে ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম চলছে।
২০১৬ সালে গাজীপুরের পাতারটেকে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক ও জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদসহ অন্য কর্মকর্তারা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, সাতজনকে বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে গোপন স্থানে আটকে রাখার পর পাতারটেকে কথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে হত্যা করা হয়। এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।
গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচার এগোলেও বহু ভুক্তভোগী পরিবারের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। কারও স্বজন ফিরে এসেছেন, কেউ জানেন না নিখোঁজ মানুষটির পরিণতি। কেউ আবার হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে।
বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি তাদের কাছে শুধু মামলার তারিখ বা রায়ের অপেক্ষা নয়; দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা ও জবাবদিহির দাবির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। রাষ্ট্রপক্ষের আশা, চলমান মামলাগুলোর বিচার দ্রুত শেষ হবে। আর ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার হবে, দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে।