শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণার মাঠ দখল করে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগকে ‘শিক্ষা ও গবেষণাবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। একই সঙ্গে মাঠটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি শাহরিয়ার খন্দকার আলিফ ও সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ সংহতি জানান। বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে গবেষণার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ এবং মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে হস্তান্তরের দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বাংলাদেশে কৃষি গবেষণার পরিসর সম্প্রসারণ যেখানে রাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়ার কথা, সেখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মাঠ অধিগ্রহণ করে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ রাষ্ট্রের শিক্ষা ও গবেষণাবিরোধী অবস্থানের প্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো আমলাতান্ত্রিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্বৃত্ত জমি নয়; এটি জ্ঞান উৎপাদন, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও উৎপাদন ব্যবস্থার বিকাশের প্রতিষ্ঠান।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের গবেষণার মাঠ রক্ষায় আন্দোলনে নামতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি শুধু শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থা মুখস্থবিদ্যা, সনদনির্ভরতা ও কর্মবাজারের জন্য সস্তা শ্রমশক্তি তৈরির কাঠামোয় পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অর্থায়ন ও উপকরণের সংকট থাকলেও তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেই।
তারা হলেন, কৃষি উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু সংকট ও কৃষির প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান গবেষণার জায়গাও সঙ্কুচিত করা হচ্ছে।
সরকারের কৃষি উন্নয়ন-সংক্রান্ত উদ্যোগের সমালোচনা করে তারা বলেন, একদিকে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের উন্নয়নের কথা বলে কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচিকে সাফল্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, অন্যদিকে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মাঠ সচিবালয় নির্মাণের জন্য দখলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থান রাষ্ট্রীয় উন্নয়ননীতির প্রকৃত চরিত্র সামনে নিয়ে আসে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সচিবালয় নির্মাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মাঠ বেছে নেওয়ার পেছনে কোনো জনস্বার্থ থাকতে পারে না। প্রশাসনিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের দায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর ধ্বংস করে পূরণ করা যায় না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি বাধা বা দমনমূলক তৎপরতা চালানো হলে তা হবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক প্রয়োগ। আন্দোলন দমনের পরিবর্তে গবেষণার মাঠ দখলের উদ্যোগ প্রত্যাহার করতে হবে।
বিবৃতিতে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী অবিলম্বে গবেষণার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে হস্তান্তর এবং গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার দাবি জানায়।