মোটরসাইকেল চালানোর সময় জ্বালানি খরচ কমাতে চান অনেকেই। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়লে বাইকের মাইলেজ নিয়ে সচেতনতা আরও বেড়ে যায়। অনেকের ধারণা, ধীরে বাইক চালালেই বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়। আবার কেউ মনে করেন, বেশি গতিতে চালালে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় বলে জ্বালানিও সাশ্রয় হয়। কিন্তু বাস্তবে বাইকের মাইলেজ নির্ভর করে ইঞ্জিনের ধরন, বাইকের গিয়ার, রাস্তার অবস্থা, গতি এবং চালানোর অভ্যাসের ওপর।
সাধারণভাবে অনেক প্রচলিত কমিউটার মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে স্থিরভাবে চালানো জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে এটিই সব বাইকের জন্য আদর্শ গতি নয়। বাইকের ইঞ্জিনের ক্ষমতা, গিয়ার অনুপাত ও নির্মাতার নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর গতি ভিন্ন হতে পারে।
খুব কম গতিতে বেশি গিয়ারে চালালে ইঞ্জিনে চাপ পড়তে পারে। অন্যদিকে অপ্রয়োজনে বেশি গতিতে চালালে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি উৎপাদন করতে হয়, ফলে জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে। তাই শুধু গতির দিকে নজর না দিয়ে উপযুক্ত গিয়ারে মসৃণভাবে বাইক চালানো জরুরি।
শহরের রাস্তায় যানজট, বারবার ব্রেক করা এবং ঘন ঘন গতি বাড়ানোর কারণে মাইলেজ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে মহাসড়কে রাস্তা ফাঁকা থাকলে নিরাপদ ও আইনসম্মত গতিতে একইভাবে বাইক চালিয়ে তুলনামূলক ভালো মাইলেজ পাওয়া সম্ভব।
বাইকের গতি ঠিক রাখার পাশাপাশি কয়েকটি অভ্যাস জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বারবার দ্রুত গতি বাড়ানো এবং ব্রেক করার ফলে জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে। তাই সামনের যানবাহনের দূরত্ব বজায় রেখে মসৃণভাবে বাইক চালান।
টায়ারে প্রয়োজনের তুলনায় কম বাতাস থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বাড়ে। এতে জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে। বাইকের নির্মাতার নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা করুন।
ইঞ্জিনের তেল, এয়ার ফিল্টার ও চেইনের অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। বাইকের যন্ত্রাংশ ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ভালো থাকে।
বাইক চালানোর সময় দীর্ঘক্ষণ ক্লাচ চেপে রাখা এড়িয়ে চলুন। গতি ও রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক গিয়ার ব্যবহার করুন।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকলে এবং নিরাপদ পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা যেতে পারে। তবে বারবার অল্প সময়ের জন্য ইঞ্জিন বন্ধ ও চালু করার প্রয়োজন নেই।
মনে রাখতে হবে, শুধু নির্দিষ্ট গতিতে বাইক চালালেই সর্বোচ্চ মাইলেজ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একই মডেলের দুটি বাইকের মাইলেজও চালানোর ধরন ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে আলাদা হতে পারে। তাই নিজের বাইকের ম্যানুয়ালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করাই ভালো।
এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কখনোই ট্রাফিক আইন অমান্য করা বা বিপজ্জনকভাবে ধীরগতিতে চলা উচিত নয়। বাংলাদেশে সড়কের ধরন অনুযায়ী মোটরসাইকেলের গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সড়কের নির্ধারিত গতিসীমা ও ট্রাফিক সাইন মেনে চলতে হবে।
সব মিলিয়ে, মসৃণভাবে বাইক চালানো, সঠিক গিয়ার ব্যবহার, টায়ারের চাপ ঠিক রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভ্যাসই জ্বালানি সাশ্রয়ে সাহায্য করতে পারে। এতে খরচ কমানোর পাশাপাশি বাইকও থাকবে ভালো অবস্থায়।